07/05/2026
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক কার্যকরী সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযুদ্ধা, গাজীপুরের মা, মাটি ও মানুষের নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ২২ তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ।
গণতন্ত্রের বিকাশে শহীদ আহ্সান উল্লাহ মাস্টারের মতো ত্যাগী, সংগ্রামী ও জনদরদি নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাবে। শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য লড়ে যাওয়া সংগ্রামী জননেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারের স্বপ্ন ছিল মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ।
উনার মৃত্যু বার্ষিকীতে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে ও বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে।
19/04/2026
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
শোক বার্তাঃ
গাজীপুর মহানগর এর অন্তর্গত কোনাবাড়ী থানাধীন ১২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা শ্রদ্ধেয় শাহাবুদ্দিন শামু ভাই ইন্তেকাল করেছেন...(ইন্নালিল্লাহি....রাজেউন)।
উনার প্রয়াণে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন ও তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছে। মহান রাব্বুল আল-আমিন উনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন, আমিন।
বার্তা প্রেরকঃ
মোঃ মাহফুজুর রহমান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ।
17/04/2026
১৭ই এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের এক স্মৃতি বিজড়িত দিন
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার শেষ নবাবের মসনদ হারানোর মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি ২শ বছরের বৃটিশ ও পাকিস্তানি হায়েনাদের শাসন-শোষণ-নির্যাতনে শৃঙ্খলিত ছিল।
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার স্বাধীনতার লাল সূর্যটি অস্তমিত হলেও ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পলাশীর প্রান্তর থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে মেহেরপুরের ভবের পাড়ার বৈদ্রনাথতলার আরেক আম্রকাননে বাংলার লাল সূর্যটি উদিত হয়েছিল। বাংলা, বাঙালি, মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর যেন সমার্থক শব্দ এখন।
একাত্তরের এ দিনে বাঙালি জাতি নতুন করে আবার জেগে ওঠে, মুছে দেয় পরাজয়ের গ্লানি। বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতীক্ষার পর অজ পাড়াগাঁয়ে রচিত হয়েছিল আরেকটি ইতিহাস।
একাত্তরের অগ্নিঝরা এ দিনেই বাঙালির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের স্বাধীন সরকারের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিমূল রচিত হয়েছিল আম্রকাননে।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আক্রান্ত বাঙালি জাতির আলোকবর্তিকা হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস। রাতারাতিই বিশ্বের ইতিহাসে অখ্যাত বৈদ্যনাথতলাটি হয়ে ওঠে বিখ্যাত। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে ভূখণ্ডটি স্বীকৃতি পায় একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি থাকায় তার অনুপস্থিতিতে তাকে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক করে এ দিন গঠিত হয় অস্থায়ী সরকারের বিপ্লবী মন্ত্রিপরিষদ। আর সঙ্গে সঙ্গে এ বিপ্লবী মন্ত্রিপরিষদকে স্বীকৃতি দেয় বিশ্ব নেতারা। আর সেই সঙ্গে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পায় স্বাধীন বাংলাদেশের নাম।
পরবর্তীতে ঐতিহাসিক এ দিবসটি ‘মুজিবনগর দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে মুক্তিকামী বাঙালির সশস্ত্র যুদ্ধ চলে সর্বত্র।
সেদিন ছিল শনিবার। সীমান্তবর্তী বৈদ্যনাথতলার গ্রামের আমবাগানের চারদিক রাইফেল হাতে কড়া পাহারায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষের ভিড় চারদিকে। ঐতিহাসিক স্বাধীনতার মুহূর্তটি ধারণ করতে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরাও প্রস্তুত।
মুক্ত আকাশের নিচে চৌকি পেতে তৈরি করা হয় শপথ মঞ্চ। মঞ্চের ওপর রাখা হয় ৬টি চেয়ার। শ্বাসরুদ্ধকর সময় পার করছে উপস্থিত সবাই। অনুষ্ঠানের প্রবেশ পথে বাংলায় লেখা- ‘স্বাগতম’।
স্থানীয় সময় তখন সকাল ১১টা বেজে ৫০ মিনিট। নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের নেতারা একে একে আসতে থাকেন। ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চারদিক।
প্রথমে শপথ মঞ্চে ওঠেন বঙ্গবন্ধুর আজীবন সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তার পেছনে তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনছুর আলী, এএইচএম কামরুজ্জামান, বিশ্বাসঘাতক খোন্দকার মোস্তাক আহমেদ ও প্রধান সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানী।
যে কোনো মুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিমান হামলার আশঙ্কায় এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের স্থায়িত্ব হয় মাত্র ৪৫ মিনিট।
অনুষ্ঠানের সূচনায় পবিত্র কোরান তেলাওয়াত, গীতা, বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়। তার পরেই হাজার কণ্ঠে গাওয়া হয় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত- ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি।’
এর পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম উত্তোলন করেন মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। এর পর আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের চিফ হুইফ অধ্যাপক ইউসুফ আলী ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
এর পর নতুন সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিবর্গ ও সেনাবাহিনী প্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান তিনি।
শপথ গ্রহণের পর পরই তেজোদীপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা ও ১২ জন আনসার সদস্য বিপ্লবী সরকারের এ মন্ত্রিপরিষদকে রাষ্ট্রীয় কায়দায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি কারাগারে বন্দি থাকায় তার অনুপস্থিতে সে দিন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে শপথ নেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
সরকারের মন্ত্রিসভায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী, এএইচএম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশ্বাসঘাতক খোন্দকার মোস্তাক আহমেদকে আইন, বিচার ও পররাষ্ট্র দফতরের মন্ত্রী করা হয়।
শপথ গ্রহণের পর পরই নতুন সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দু’জনই বিশ্ববাসীর কাছে নতুন রাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বীকৃতি দান ও সামরিক সাহায্যের আবেদন জানান।
পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া সরকার বিশ্ববাসীকে দেখাতে চেয়েছিলেন বাঙালির স্বাধীনতা যুদ্ধ হচ্ছে ভারতের মাটিতে বসে। ইয়াহিয়ার এ প্রচার মিথ্যা প্রমাণ করার জন্যই স্বাধীন বাংলাদেশে সরকারের শপথগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় বাংলাদেশের মাটিতে বসেই।
পরবর্তীতে এই মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে ও দক্ষ পরিচালনায় মুক্তিপাগল বাঙালি জাতি নয় মাস মরণপণ লড়াই করে ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার লাল সূর্যটি। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর হাজার হাজার মা-বোনের ইজ্জত, বীর বাঙালির আত্মত্যাগে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পায় স্বাধীন ও সার্বভোম একটি রাষ্ট্র- বাংলাদেশ।
#মুজিবনগর #১৭এপ্রিল #মুক্তিযুদ্ধ #স্বাধীনতা #বঙ্গবন্ধু
10/04/2026
‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ বাংলাদেশের অনন্য এক দলিল, ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সাল।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রণীত হয় ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ এবং ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়। এই ঘোষণাপত্রে লেখা হয়েছে, ‘আমাদের এই স্বাধীনতার ঘোষণা ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’ ঘোষণাপত্রের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে অভিহিত করা। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা অনুমোদন করে আরো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয় যে শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপরাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। কোনো কারণে যদি রাষ্ট্রপ্রধান না থাকেন অথবা যদি রাষ্ট্রপ্রধান কাজে যোগদান করতে না পারেন অথবা তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে যদি অক্ষম হন, তবে রাষ্ট্রপ্রধান প্রদত্ত সব দায়িত্ব উপরাষ্ট্রপ্রধান পালন করবেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই ঘোষণাপত্রটি এখন সম্পূর্ণ আকারে বাংলাদেশের সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ সংবিধানের একটি মৌলিক কাঠামোরূপে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে ঘোষণাপত্রটি বাংলাদেশের সংবিধানের একটি অপরিবর্তনীয় বিধান। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জারীকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক দলিল। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫০(১) অনুচ্ছেদ এবং চতুর্থ তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের একটি ক্রান্তিকালীন অস্থায়ী বিধান হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের ৭(খ) অনুচ্ছেদ একটি মৌলিক কাঠামোরূপে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দান করেছে।
বাঙালি জাতির স্বাধীনতার মূলমন্ত্র নিহিত আছে এই ঘোষণাপত্রে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছিল, সে ম্যান্ডেট মোতাবেক নির্বাচিত প্রতিনিধিরা গণপরিষদ গঠন করে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের সময় যে সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার বাণী বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়, তার সঙ্গেও স্বাধীনতাকামী বাঙালির চেতনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তবে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জারীকৃত মাত্র ৫১০ শব্দের এ ঘোষণাপত্র জনগণের মাধ্যে আশা জাগাতে সক্ষম হয়। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান ও স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়ার আইনি দলিল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। গণবিমুখ ও নিপীড়নকারী পাকিস্তানের রাষ্ট্রকাঠামোর মডেল ছুড়ে ফেলে যে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সেই রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নির্ণয় করা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা। এই ছিল মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক চেতনা। এই চেতনার সফল ও সার্থক বাস্তবায়ন হলো স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সংবিধান মূলত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের উল্লিখিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারসমৃদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ও বাস্তবায়নের পথনির্দেশক দলিল।
জাতিসংঘ সনদ, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র, আন্তর্জাতিক দুটি অঙ্গীকারনামায় সংবলিত মূল ভাবধারার সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও সংবিধানের মূলনীতিগুলো একীভূত। আমাদের সংবিধান ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সৃষ্টি হয় এক রক্তক্ষয়ী ঐতিহাসিক সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে।
একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র মূলত সেই রাষ্ট্রের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তিকে সুস্পষ্ট করে তোলে। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য একটি মহামূল্যবান দলিল। তবে প্রতিটি রাষ্ট্রের একটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র থাকতে হবে ব্যাপারটি এমনও নয়। মূলত যেসব রাষ্ট্র পরাধীনতার শিকল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন করেছে তাদের জন্য এটি একটি অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। বিশ্বে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণার দলিলের নজির পাওয়া যায় স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে। ১৩২০ সালের ৬ এপ্রিল একটি চিঠির আকারে এই ঘোষণাপত্রটি স্বাক্ষরিত হয়। তবে উল্লেখযোগ্য যে এই স্বাধীনতার দলিলটি মূলত স্কটল্যান্ডের প্রশাসনিক স্বাধীনতার সূচনা করে, সার্বভৌম স্বাধীনতার যে স্বরূপ তা এখানে অনুপস্থিত। ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই তারিখে প্রণীত আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণার দলিলটি বিশ্বের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলকের সৃষ্টি করে। এই দলিলটির মাধ্যমে আমেরিকার ১৩টি উপনিবেশ অধ্যুষিত অঞ্চল তাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করে। পরবর্তী পর্যায়ে বিশ্বের যেসব রাষ্ট্র ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ থেকে নিজেদের স্বাধীন করতে সক্ষম হয়েছে, তাদের জন্য আমেরিকার স্বাধীনতার দলিলটি একটি আন্তর্জাতিকভাবে অনুকরণীয় দলিলে পরিগণিত হয়। ১৭৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বে মোট ১২০টি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি হওয়ার আগে বিশ্বের অন্যান্য অনেক নতুন রাষ্ট্রই তাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মডেল সরাসরিভাবে অনুকরণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৭৯০ সালের প্রভিন্স অব ফ্ল্যান্ডার্সের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, ১৮১১ সালের ভেনিজুয়েলার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, ১৮৪৭ সালের লাইবেরিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, ১৯৪৫ সালের ভিয়েতনামের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ইত্যাদি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি বিভিন্ন কারণে বিশ্বের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী একটি ধারার জন্ম দেয়। বাংলাদেশ হলো বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র, যেটি সফলভাবে আত্মনিয়ন্ত্রণের আইনানুগ অধিকার প্রয়োগ করে একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে। আর তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি একটি অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের সূত্র ধরেই ১৯৭২ সালে আমাদের সংবিধান প্রণীত হয়। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জনপ্রতিনিধিরা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এই কথাটি উচ্চারণ করেছিলেন যে ‘আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।’ ১০ এপ্রিল রাতে স্বাধীনতার এই ঘোষণা কলকাতার আকাশবাণীর একটি বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়। এ ঘোষণার পরপরই মুক্তিযুদ্ধ একটি নতুন মাত্রা পায়। মুক্তিযুদ্ধ নতুন করে গতিশীল হয়ে ওঠে, মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হন। এ জন্য বাঙালির জীবনে ১০ এপ্রিল আজও স্মরণীয় একটি দিন।
26/03/2026
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
শোক বার্তাঃ
বিশিষ্ট গবেষক ও লেখক, সাবেক ব্যাংকার, শিক্ষানুরাগী, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শহীদুল্লাহ অদ্য ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ১১.৪৫ ঘটিকায় ইন্তেকাল করেছেন...(ইন্নালিল্লাহি....রাজেউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, কন্যা, আদরের নাতি-নাতনি, ভাই বোনসহ অনেক আত্মীয় স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও দলীয় নেতা কর্মী রেখে গেছেন। বাদ আছর গার্ড অব অনার এবং বাদ মাগরিব মরহুমার নিজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
উনার প্রয়াণে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন ও তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছে। মহান রাব্বুল আল-আমিন উনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন, আমিন।
বার্তা প্রেরকঃ
মোঃ মাহফুজুর রহমান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ
26/03/2026
মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা...
এই স্বাধীনতা দিবসে আমরা আমাদের স্বাধীনতার মহান স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি ও বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি—যাঁর দূরদর্শী, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বাঙ্গালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার পথে পরিচালিত করেছিল।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যখন ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক নৃশংস গণহত্যা শুরু করে, তখন বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করেন। এর পরপরই তিনি গ্রেপ্তার হলেও তাঁর স্বাধীনতার ডাক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সাহসী নেতৃবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে এবং স্বাধীন বাংলা বেতারের বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে সেই আহ্বান হয়ে ওঠে মুক্তি সংগ্রামের মূল প্রেরণা—যা মহান মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সেই সংগ্রাম কেবল ১৯৭১-এর স্বাধীনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আমাদের অঙ্গীকার সবসময় ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে সমুন্নত রাখা—একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়বিচারভিত্তিক এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তবে আজ জাতি গভীর সংকটের সম্মুখীন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের হামলা ও ভাঙচুর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না—তা ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও প্রতীকের ওপর সরাসরি আঘাত। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে, জাতীয় সম্পদ ও প্রতীক ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। এসব ঘটনার মুখে মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসন এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের নীরবতা ১৯৭১-এর মূলবোধের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার পুনঃব্যক্ত করছি:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা কেবল ভৌগোলিক নয়—এটি একটি আদর্শিক সত্তা।
এই স্বাধীনতা রক্ষায় আমাদের অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে হবে, গণতন্ত্র রক্ষা করতে হবে এবং প্রকৃত অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
---
On this Independence Day, we pay our deepest respect to Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman—the supreme architect of our freedom—whose unmatched leadership guided a nation from oppression to independence.
On the night of 25 March 1971, as the Pakistani military launched the massacre known as Operation Searchlight, Bangabandhu made the historic declaration of Bangladesh’s independence. Though he was arrested shortly after, his call for freedom spread across the land—carried by courageous leaders, freedom fighters, and broadcast through resistance channels—igniting the great Bangladesh Liberation War.
Under the leadership of the Bangladesh Awami League, the struggle did not end with independence in 1971. The commitment has always been to uphold the true spirit of liberation—building a democratic, just, and prosperous Bangladesh. The pursuit of economic freedom remains central to realizing the full promise of independence for every citizen.
Yet today, the nation faces profound challenges. The militant attacks and vandalism of July 2024 were not isolated incidents—they were direct assaults on the ideals and symbols of our Liberation War. Freedom fighters were humiliated, national symbols were destroyed, and law and order deteriorated alongside a weakening economy. The silence of the Muhammad Yunus regime and the current BNP government in the face of these incidents raises serious concerns about their commitment to the values of 1971.
On this day, we reaffirm our pledge:
The independence of Bangladesh is not merely territorial—it is ideological.
To protect it, we must uphold the spirit of the Liberation War, defend democracy, and continue the journey toward true economic emancipation.
Joy Bangla. Joy Bangabandhu.
17/03/2026
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে
চিরস্মরণীয় বঙ্গবন্ধু..
বিনম্র শ্রদ্ধা জাতির পিতা!
——
ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ থাকেন, যাদের জীবন কেবল ব্যক্তিগত জীবনের গল্প নয়—বরং একটি জাতির উত্থান, সংগ্রাম এবং স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।
শেখ মুজিবুর রহমান, তেমনই এক নাম, একটি ইতিহাস। তার নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ, পতাকা আর জন্ম পরিচয়।
14/03/2026
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
প্রিয় নেতৃবৃন্দ, সংগ্রামী সালাম গ্রহণ করবেন। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ১০৬ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আগামী ১৭ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার দুপুর ২.০০ ঘটিকায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ এক টেলিগ্রাম ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করবেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি আলহাজ্ব এ্যাড. আজমত উল্লা খান।
উক্ত সভায় সকলকে সংযুক্ত থাকার জন্য বিনীত অনুরোধ রইলো।
10/03/2026
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য কোনোবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সর্বজন শ্রদ্বেয় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা জনাব আলহাজ এড শরবেশ আলী সাহেব ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না-লিল্লাহ...... রাজেউন)।
উনার প্রয়াণে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন ও তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছে। মহান রাব্বুল আল-আমিন উনাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন, আমিন।