আওয়ামী লীগ কোনো হঠাৎ জন্ম নেওয়া দল নয়—এটি গড়ে উঠেছে দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ আর ইতিহাসের রক্তমাখা পথ পেরিয়ে। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি ধাপে এই দল লড়েছে মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের জন্য। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি অধ্যায়ে আওয়ামী লীগের ভূমিকা ছিল সাহসী ও নির্ভীক।
ইচ্ছেমতো
আমাদের আশে-পাশের মানুষের নিন্দা
কোনো বিখ্যাত আতর নয়,
যে গায়ে মাখতেই হবে � I am Very simple & Strictly Clear.
আওয়ামী লীগ আমলের ভোট বাদ দিলাম। বাকি ইলেকশনগুলোতে ভোটের হার:
১৯৯১:
আওয়ামী লীগ ৩০.০৮% + জাপা ১১.৯২% = ৪২%
বিএনপি ৩০.৮১% + জামায়াত ১২.১৩% = ৪২.৯৪%
১৯৯৬:
আওয়ামী লীগ ৩৭.৪৪% + জাপা ১৬.৪০% = ৫৩.৮৪%
বিএনপি ৩৩.৬১% + জামায়াত ৮.৬১% = ৪২.২২%
২০০১:
আওয়ামী লীগ ৪০.১৩% + জাপা ৭.২৫% (এরশাদের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট) = ৪৭.৩৮%
বিএনপি ৪০.৯৭% + জামায়াত ৪.২৮% = ৪৫.২৫%
২০০৮:
আওয়ামী লীগ ৪৮.০৪% + জাপা ৭.০৪% = ৫৫.০৮%
বিএনপি ৩২.৫০% + জামায়াত ৪.৭০% = ৩৭.২০%
আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করেছে, তখন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মিলিত ভোট বিএনপি ও জামায়াতের মিলিত ভোটের চেয়ে প্রায় ১৫% বেশি। ২০০৮ সালের নির্বাচনকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও রেপ্রেজেন্টিটিভ নির্বাচন হিসেবে ধরা হয়; কারণ, ঐ বছর ভোটের হার সবচেয়ে বেশি ছিলো। তখন লীগ-জাপার চেয়ে বিএনপি-জামায়াতের ভোট ১৮% কম।
এই ৪ দল মিলে মোট ভোটের প্রায় ৯২%। বাকি দলগুলোর ভোট ৮%, যা এই ২ জোটের মাঝে সমানভাবে ভাগ করলেও পরিসংখ্যান খুব বেশি এদিক ওদিক হবে না।
এখন ইউনুস যে "জাতীয় ঐক্যের" ভোট করতে চাইছে, সেখানে আওয়ামী লীগ থাকবে না, জাতীয় পার্টি থাকবে না, তাদের জোটের বাকি দলগুলোও থাকবে না। তার মানে মোট ভোটারের ৬০%-এরই কোনো প্রতিনিধি এই তথাকথিত "জাতীয় ঐক্যের" ভোটে অনুপস্থিত।
Chandra Bindu
শেখ হাসিনার রায়ের পর দেশে বিরাট কিছু ঘটবে বলে তার হেটারসরা আশা করেছিল। সেরকম কিছু ঘটেনি বলে তারা বলছে জনগণ শেখ হাসিনাকে ত্যাগ করেছে। সাধারণ মানুষ রাস্তায় কেন নেমে আসেনি এটাই তাদের বক্তব্য।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরও একই পরিস্থিতি ঘটেছিল। আপনাদের জানিয়ে রাখি খন্দকার মোস্তাকের ডাকা বৈঠকে কবি সুফিয়া কামাল পর্যন্ত যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। মোস্তাকের মন্ত্রীসভায় বঙ্গবন্ধু সরকারের সব মন্ত্রী যোগ দিয়েছিলেন। ভাসানী খন্দকার মোস্তাককে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। এখনকার চেয়েও পরিস্থিতি তখন অনেক খারাপ ছিল। তখন আওয়ামী লীগের সব বড় বড় নেতা জেলে ছিল। প্রধান চার নেতাকে জেলেই হত্যা করা হয়। কবি লেখক বুদ্ধিজীবী ভয়ে কেউ আওয়ামী লীগের জন্য একটি শব্দ ব্যবহার করতে পারেননি। এমন সব কিচ্ছা বাজারে বেরিয়েছিল যে মুজিব একটা দানব ছিল, শেখ কামাল ডাকাতি করতো। আমেরিকা, চীন, সৌদিসহ আরব বিশ্ব ছিল মুজিব হত্যার পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পক্ষে। এই বৈরী সময় যখন শেখ মুজিবের বিরোধীরা রাস্তায় মিষ্টি বিতরণ করেছে, সেই সময়ের পরও তাহলে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ফিরে এলে কিভাবে? এত এত মুজিব ভক্তরা তো নতুন গজায়নি।
একজনের লেখা আমার নজরে এসেছে যিনি নিজেকে আওয়ামী লীগ সমর্থক ঘরের ছেলে বলে দাবী করেছেন। তিনি হাসিনার পতন ও আওয়ামী লীগের জনসমর্থনের ধসের প্রমাণ হিসেবে বলেছেন, তার বোন তার ছেলের যখন মুখে কথা ফুটেনি তখন তার কানে কানে গান গাইত ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেতো বঙ্গবন্ধু মরেনি’ সেই তিনিই নাকি ২৪ এর আন্দোলনে নিজের ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন। এটাই শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্তিম দশা হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছেন ভদ্রলোক। তার বলা কাহিনীতেই কিন্তু তার যুক্তির দুর্বলতা দেখা যায়। তার বোন কখন ছেলেকে বঙ্গবন্ধুর গান শোনাতেন? অনেক বছর পর তাই না? তো ১৫ আগস্ট এই মানুষটির জন্য তো কেউ ভয়ে রাস্তায় নামতে পারেনি। সেনাবাহিনী টুঙ্গিপাড়ায় রাতের আঁধারে গিয়ে তাকে সমাহিত করেছিল। ভয়ে পারিবারিক কিছু মানুষ ছাড়া সেই জানাজায় কেউ অংশগ্রহণ করতে পারেনি কেন? গোপালগঞ্জের মত জায়গায়ও কেন সেটা সম্ভব হয়নি। তো এহেন খারাপ মানুষটি তারপর কোন এক অনাত্মীয় নারীর মনে এমন করে বাসা বাঁধলেন যে নিজের অবুঝ পুত্রের কানে কানে গান গেয়ে আক্ষেপ করেন ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরেনি’!
এইভাবেই ফিরে আসে। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে বলেই বারবার আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। ভুল ত্রুটি সব কিছুর পরও মানুষের ভালোবাসা পাবে। তবে ২৪ এর শত্রু মিত্র চিনতে পারলে এই দলটি হয়ত আর কোনদিন ভুল করবে না। যারা শেষ দেখছেন তারা একদিন জোকারে পরিণত হবেন। খুব বেশি সময় লাগবে বলেও মনে হয় না।
©সুষুপ্ত পাঠক
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka
